ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে সমালোচনা ও চাপে ইসরাইল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও বসতি নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের অবসান এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  গাজার জন্য হরতাল কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের আহ্বান সারজিস আলমের  

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। কাতার, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও গাজায় অব্যাহত মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

শুধু আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো নয়, ইউরোপ ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের মধ্য থেকেও ইসরাইলের নীতির সমালোচনা এসেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বলেন, সেই হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না।

জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতার, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। তাঁরা মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানো এবং গাজার অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও কয়েকটি দেশ বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্যের বাণিজ্যে জাতীয় বা ইউরোপীয় বিধিনিষেধ আরোপের অভিপ্রায় জানিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা জাতীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর আগে আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও বেলজিয়ামও ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষার কথা জানিয়েছে।

এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকেও গাজার পরিস্থিতি ও ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।

ফলে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ, মানবিক পরিস্থিতি ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইসরাইলের ওপর কূটনৈতিক চাপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে সমালোচনা ও চাপে ইসরাইল

আপডেট সময় ০৩:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও বসতি নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের অবসান এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের উসকানিতে পা দেবে না তুরস্ক, সিরিয়াকে দেবে না নতুন যুদ্ধে জড়াতে: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। কাতার, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও গাজায় অব্যাহত মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

শুধু আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো নয়, ইউরোপ ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের মধ্য থেকেও ইসরাইলের নীতির সমালোচনা এসেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি নীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বলেন, সেই হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না।

জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতার, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। তাঁরা মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানো এবং গাজার অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও কয়েকটি দেশ বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্যের বাণিজ্যে জাতীয় বা ইউরোপীয় বিধিনিষেধ আরোপের অভিপ্রায় জানিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা জাতীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর আগে আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও বেলজিয়ামও ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য সীমিত বা বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষার কথা জানিয়েছে।

এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকেও গাজার পরিস্থিতি ও ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।

ফলে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ, মানবিক পরিস্থিতি ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইসরাইলের ওপর কূটনৈতিক চাপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।