১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ ফোনে ব্লক করায় প্রেমিকের প্রাণ নিল প্রেমিকা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে সরকারের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য ভেনেজুয়েলায় তেল উত্তোলনের নিয়ম সহজ করছে কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডা.শফিকুর রহমান: আমির হামজা দুই বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী মিতু ‘গুপ্ত দলের’ লোকেরা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান

ব্যাংক খাতের সংকট নিরসনে ঐক্যের আহ্বান: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 104

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য কোনো ব্যাংকারই দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই আজ এই সেক্টর সংকটে রয়েছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ২৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গভর্নর বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের ব্যাংকার, দেশের অর্থনীতির কাণ্ডারি। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে সততা ও অসততার দুটি পথ খোলা থাকে, তবে দেশকে এগিয়ে নিতে সৎ পথেই থাকতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো দেশকেই সংকটে ফেলে। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশের অর্থনীতি একটি বড় ধাক্কা সামলেছে। তবে ইতোমধ্যে ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে।” তিনি জানান, আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যাংকগুলো দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং বিদেশি মুদ্রার বাজারও স্থিতিশীল হচ্ছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে, এবং আশা করা হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই সুদহার ৭-৮ শতাংশের মধ্যে নেমে আসুক, তবে এজন্য একযোগে কাজ করতে হবে।”

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন ও উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।

সমাবর্তনে ১,৯৬৯ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য দুই শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একতা ও সততার মাধ্যমেই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক খাতের সংকট নিরসনে ঐক্যের আহ্বান: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

আপডেট সময় ০৪:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য কোনো ব্যাংকারই দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই আজ এই সেক্টর সংকটে রয়েছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ২৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গভর্নর বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের ব্যাংকার, দেশের অর্থনীতির কাণ্ডারি। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে সততা ও অসততার দুটি পথ খোলা থাকে, তবে দেশকে এগিয়ে নিতে সৎ পথেই থাকতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো দেশকেই সংকটে ফেলে। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশের অর্থনীতি একটি বড় ধাক্কা সামলেছে। তবে ইতোমধ্যে ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে।” তিনি জানান, আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যাংকগুলো দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং বিদেশি মুদ্রার বাজারও স্থিতিশীল হচ্ছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে, এবং আশা করা হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই সুদহার ৭-৮ শতাংশের মধ্যে নেমে আসুক, তবে এজন্য একযোগে কাজ করতে হবে।”

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন ও উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।

সমাবর্তনে ১,৯৬৯ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য দুই শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একতা ও সততার মাধ্যমেই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।”