ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ, নিহত বেড়ে ৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 38

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ভাষ্য, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত এবং জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সেগুলো হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের হিসাবে, দুর্ঘটনায় মোট আটজন শ্রমিক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় বাস দুর্ঘটনা: নিহত ২, আহত ৫

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক বাসিন্দার ভাষ্য, কারখানার ভেতর থেকে হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা সেখানে ছুটে যান। অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে দেখতে পান তারা। পরে জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু লোক কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার সকালে কারখানা থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে কারখানার পাশের খাল দিয়ে সাগরে যাওয়ার পথ ব্যবহার করতে পারেননি তারা। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে বলে জানান তারা।

কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন ফোনে জানান, তিনি তখন কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতাবশত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন এবং প্রায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, ফেরদৌস স্টিলে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন।

তৌফিকুল ইসলামের ভাষ্য, জাহাজটির কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ শুরু করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল ছিল বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ, নিহত বেড়ে ৮

আপডেট সময় ০৭:১৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ভাষ্য, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত এবং জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সেগুলো হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের হিসাবে, দুর্ঘটনায় মোট আটজন শ্রমিক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  কমিটি তৈরী করবে আহত নিহতদের তালিকা

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক বাসিন্দার ভাষ্য, কারখানার ভেতর থেকে হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা সেখানে ছুটে যান। অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে দেখতে পান তারা। পরে জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কিছু লোক কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার সকালে কারখানা থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে কারখানার পাশের খাল দিয়ে সাগরে যাওয়ার পথ ব্যবহার করতে পারেননি তারা। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে বলে জানান তারা।

কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন ফোনে জানান, তিনি তখন কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতাবশত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন এবং প্রায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, ফেরদৌস স্টিলে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন।

তৌফিকুল ইসলামের ভাষ্য, জাহাজটির কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ শুরু করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল ছিল বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।