ভারতের মেঘালয়ে অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৮
- আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 36
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং খনিটির ভেতরে এখনো একাধিক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলার দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনিটির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্গম এলাকা এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মনিষ কুমার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের খনিটি একটি অবৈধ ‘র্যাট-হোল’ কয়লা খনি। এ ধরনের খনিতে সরু ও গভীর সুড়ঙ্গ তৈরি করে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়লা উত্তোলন করতে হয়।
জেলা পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডিনামাইট বিস্ফোরণের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, কেউ দগ্ধ হয়ে আবার কেউ বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে মারা গেছে। খনির ভেতরে কতজন শ্রমিক ছিল কিংবা ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কংরাড সাংমা। তিনি অবৈধ খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পূর্ব ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলে অনুমোদনহীন খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন একটি সাধারণ ঘটনা। এসব খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা দৈনিক গড়ে ১৮ থেকে ২৪ ডলার আয় করেন।
এর আগে ২০১৮ সালে মেঘাল্যের একটি র্যাট-হোল খনিতে পানিতে ডুবে অন্তত ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরিবেশ দূষণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে রাজ্যটিতে ২০১৪ সাল থেকেই এ ধরনের খনন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
























