০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
অপেক্ষা ছিল পরিবারের, ফিরল নিথর দেহ: রেললাইনে ঝরল রাবি ছাত্রের প্রাণ থালা-বাটি হাতে ভুখা মিছিল: যমুনার সামনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান সিকিমে টানা ভূমিকম্পে কাঁপল অঞ্চল, কম্পন টের বাংলাদেশেও আবারও মা হচ্ছেন চিত্রনায়িকা বুবলী ভারতের মেঘালয়ে অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৮ ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া ঠেকাতে কার্যকর ‘২০–৮০’ চার্জিং ফর্মুলা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা জার্মানির রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলতেই গাজায় ফেরার পথে ফিলিস্তিনিরা, যুদ্ধের মধ্যেও নতুন জীবনের স্বপ্ন শুক্রবার রাজধানীতে কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরির আগে জেনে নিন — এলাকায় কোনো ‘বড় ভাইয়ের’ দাপট চলবে না: ডা. তাসনিম জারা

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলতেই গাজায় ফেরার পথে ফিলিস্তিনিরা, যুদ্ধের মধ্যেও নতুন জীবনের স্বপ্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 38

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর ইতোমধ্যে আরও ২৫ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরে এসেছেন। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে কয়েকজন রোগীকে গাজা থেকে সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর গাজায় এটি ছিল তৃতীয় দফার প্রত্যাবর্তন। ২৫ জনের এই দলটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে গাজায় প্রবেশ করে। তারা মিসরের এল আরিশ শহর থেকে বাসে করে প্রায় ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে পৌঁছান।

ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই ছিলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আলজাজিরাকে তারা জানান, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অনেকেই আবেগে ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে তারা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ভয়াবহ চিত্র। ফেরত আসা ফিলিস্তিনি আইশা বালাউই রয়টার্সকে বলেন, “এই অনুভূতিটা আনন্দ আর দুঃখের মাঝামাঝি। পরিবারকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি, কিন্তু নিজের দেশের এই ধ্বংস দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি ধ্বংস এতটা ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলেও মানসিক শান্তি পাননি। “আমার জায়গা ওখানে নয়। আমার জায়গা এখানে, গাজা,”—বলেছেন তিনি।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের কয়েক ঘণ্টা পরই সাতজন গুরুতর অসুস্থ রোগী ও তাদের ১৪ জন স্বজনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, রোগীদের একটি বাসে করে সীমান্তের মিসরীয় অংশে পাঠানো হয়েছে।

তবে রোগী স্থানান্তরের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলজাজিরার আরেক প্রতিবেদক হানি মাহমুদ। তিনি জানান, আংশিক পুনরায় চালুর পর প্রতিদিন যতজন রোগী পাঠানোর কথা ছিল, বাস্তবে সংখ্যা তার চেয়ে অনেক কম। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ও তাদের সঙ্গে দুজন করে স্বজন পাঠানোর কথা থাকলেও এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩০ জন রোগী স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

হানি মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধীরগতিতে চললে গাজায় থাকা প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে স্থানান্তর করতে অন্তত তিন বছর লেগে যাবে, অথচ তাদের অনেকেরই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে ২২টি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ১ হাজার ৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাফাহ সীমান্ত যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ করে রেখেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি শর্ত হিসেবে গত সোমবার সীমান্তটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়। তবে কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরই ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক নারী আগেই আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের চোখ ও হাত বেঁধে সম্পূর্ণ শরীর তল্লাশি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (আইসিএসপিআর) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তকে মানবিক করিডর হিসেবে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এদিকে, মানুষ ফেরা ও রোগী স্থানান্তরের মধ্যেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটিতে আগের দিন অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার খান ইউনিসে হতাহতের পাশাপাশি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চল এবং গাজা সিটির পূর্ব তুফ্ফাহ এলাকায় বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনের’ কাছাকাছি অবস্থিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলতেই গাজায় ফেরার পথে ফিলিস্তিনিরা, যুদ্ধের মধ্যেও নতুন জীবনের স্বপ্ন

আপডেট সময় ১১:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর ইতোমধ্যে আরও ২৫ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরে এসেছেন। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে কয়েকজন রোগীকে গাজা থেকে সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর গাজায় এটি ছিল তৃতীয় দফার প্রত্যাবর্তন। ২৫ জনের এই দলটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে গাজায় প্রবেশ করে। তারা মিসরের এল আরিশ শহর থেকে বাসে করে প্রায় ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে পৌঁছান।

ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই ছিলেন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আলজাজিরাকে তারা জানান, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অনেকেই আবেগে ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে তারা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ভয়াবহ চিত্র। ফেরত আসা ফিলিস্তিনি আইশা বালাউই রয়টার্সকে বলেন, “এই অনুভূতিটা আনন্দ আর দুঃখের মাঝামাঝি। পরিবারকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি, কিন্তু নিজের দেশের এই ধ্বংস দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি ধ্বংস এতটা ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলেও মানসিক শান্তি পাননি। “আমার জায়গা ওখানে নয়। আমার জায়গা এখানে, গাজা,”—বলেছেন তিনি।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের কয়েক ঘণ্টা পরই সাতজন গুরুতর অসুস্থ রোগী ও তাদের ১৪ জন স্বজনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, রোগীদের একটি বাসে করে সীমান্তের মিসরীয় অংশে পাঠানো হয়েছে।

তবে রোগী স্থানান্তরের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলজাজিরার আরেক প্রতিবেদক হানি মাহমুদ। তিনি জানান, আংশিক পুনরায় চালুর পর প্রতিদিন যতজন রোগী পাঠানোর কথা ছিল, বাস্তবে সংখ্যা তার চেয়ে অনেক কম। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ও তাদের সঙ্গে দুজন করে স্বজন পাঠানোর কথা থাকলেও এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩০ জন রোগী স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।

হানি মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধীরগতিতে চললে গাজায় থাকা প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে স্থানান্তর করতে অন্তত তিন বছর লেগে যাবে, অথচ তাদের অনেকেরই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে ২২টি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ১ হাজার ৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাফাহ সীমান্ত যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ করে রেখেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি শর্ত হিসেবে গত সোমবার সীমান্তটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়। তবে কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরই ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক নারী আগেই আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের চোখ ও হাত বেঁধে সম্পূর্ণ শরীর তল্লাশি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (আইসিএসপিআর) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তকে মানবিক করিডর হিসেবে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এদিকে, মানুষ ফেরা ও রোগী স্থানান্তরের মধ্যেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিনগুলোর একটিতে আগের দিন অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। বৃহস্পতিবার খান ইউনিসে হতাহতের পাশাপাশি মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চল এবং গাজা সিটির পূর্ব তুফ্ফাহ এলাকায় বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনের’ কাছাকাছি অবস্থিত।