১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য ভেনেজুয়েলায় তেল উত্তোলনের নিয়ম সহজ করছে কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডা.শফিকুর রহমান: আমির হামজা দুই বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী মিতু ‘গুপ্ত দলের’ লোকেরা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান প্রিসাইডিং অফিসার যাতে ভোটের রেজাল্ট ছাড়া বের হতে না পারে: মির্জা আব্বাস বিএনপি কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে নয়: মির্জা ফখরুল গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মন্দিরের জায়গায় শৌচাগার: জবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের মন্দির ‘উদ্বোধন’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 55

ছবি: খবরের কথা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ‘শৌচাগার’ নির্মাণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দ্রুত মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে রাতে নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ‘এক, দুই, তিন, চার/মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’ এবং ‘মন্দির আমার অধিকার/রুখে দেবে সাধ্য কার’—এমন সব স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বিরতিহীনভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের উপাসনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মন্দির নেই। জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, “আমরা মন্দির স্থাপনের দাবিতে বারবার স্মারকলিপি দিয়েছি। উপাচার্য মহোদয় জায়গা নেই বলে জানালে আমরা মুক্তমঞ্চের পাশের একটি জায়গা সুনির্দিষ্ট করে দেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সেই জায়গায় মন্দির না করে সেখানে এখন পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে।”
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার এই ঘটনাকে ধর্মীয় অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও তারা আমাদের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের ব্যথিত করেছে।”

রাত ১০টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে না আসায়, আন্দোলনকারীরা নিজেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তারা নিজ উদ্যোগে দেব-দেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করেন এবং এটিকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা সেখানে সারারাত অবস্থান করারও সিদ্ধান্ত নেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছেন জকসুর (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কয়েকজন সম্পাদক। সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, “মন্দির স্থাপন শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রস্তাবিত জায়গায় ওয়াশরুম নির্মাণের সিদ্ধান্ত শুধু অসংবেদনশীলই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অনুভূতির প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।”
পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন প্রশাসনের এই আচরণকে ‘বিমাতাসুলভ’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “বারবার জায়গার সংকুলান বা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দোহাই দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের প্রস্তাবিত স্থানেই টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে।”

সারাদিন ব্যাপী এই আন্দোলনে জকসুর ভিপি, জিএস বা এজিএস-এর পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অবন্তী রায় নামের এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন, “আমরা ২১ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেছি, অথচ সংকটের সময় মাত্র ২-৩ জনকে পাশে পাচ্ছি। বাকিরা অন্য অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকলেও আমাদের খোঁজ নেননি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব সনাতনীদের ছাড়াই জকসু হয়েছে?”

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ ও আন্দোলনের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের জিএস আব্দুল আলীম আরিফকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্দিরের জায়গায় শৌচাগার: জবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের মন্দির ‘উদ্বোধন’

আপডেট সময় ১১:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ‘শৌচাগার’ নির্মাণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দ্রুত মন্দির নির্মাণের দাবিতে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে রাতে নিজেরাই ভিত্তিপূজার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ‘এক, দুই, তিন, চার/মন্দির আমার অধিকার’, ‘প্রশাসন লজ্জা লজ্জা’ এবং ‘মন্দির আমার অধিকার/রুখে দেবে সাধ্য কার’—এমন সব স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বিরতিহীনভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের উপাসনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মন্দির নেই। জবি শাখা শ্রীচৈতন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাল বলেন, “আমরা মন্দির স্থাপনের দাবিতে বারবার স্মারকলিপি দিয়েছি। উপাচার্য মহোদয় জায়গা নেই বলে জানালে আমরা মুক্তমঞ্চের পাশের একটি জায়গা সুনির্দিষ্ট করে দেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সেই জায়গায় মন্দির না করে সেখানে এখন পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে।”
ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার এই ঘটনাকে ধর্মীয় অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও তারা আমাদের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমাদের ব্যথিত করেছে।”

রাত ১০টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে না আসায়, আন্দোলনকারীরা নিজেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তারা নিজ উদ্যোগে দেব-দেবীর ছবি ও পূজাসামগ্রী নিয়ে এসে নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপূজা সম্পন্ন করেন এবং এটিকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা সেখানে সারারাত অবস্থান করারও সিদ্ধান্ত নেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছেন জকসুর (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কয়েকজন সম্পাদক। সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ বলেন, “মন্দির স্থাপন শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রস্তাবিত জায়গায় ওয়াশরুম নির্মাণের সিদ্ধান্ত শুধু অসংবেদনশীলই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অনুভূতির প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।”
পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন প্রশাসনের এই আচরণকে ‘বিমাতাসুলভ’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “বারবার জায়গার সংকুলান বা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দোহাই দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের প্রস্তাবিত স্থানেই টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে।”

সারাদিন ব্যাপী এই আন্দোলনে জকসুর ভিপি, জিএস বা এজিএস-এর পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অবন্তী রায় নামের এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন, “আমরা ২১ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেছি, অথচ সংকটের সময় মাত্র ২-৩ জনকে পাশে পাচ্ছি। বাকিরা অন্য অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকলেও আমাদের খোঁজ নেননি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব সনাতনীদের ছাড়াই জকসু হয়েছে?”

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ ও আন্দোলনের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের জিএস আব্দুল আলীম আরিফকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।