ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ৬ ‘১৭ বছর মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1661

ছবি সংগৃহীত

 

মিয়ানমারে কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তর মিয়ানমারের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ অন্যতম ছিল এই মিং পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকশ অনলাইন জালিয়াতি কেন্দ্র, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামক একটি কেন্দ্র থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্যমতে, এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করত, যাদের অনেককেই পাচার করে এনে দাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

আরও পড়ুন  চীনের অত্যাধুনিক ভারী বস্তু বহনকারী জাহাজ নির্মাণ

২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চীন এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। চক্রের মূল হোতা মিং শুয়েচাং একসময় মিয়ানমারের সংসদ সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশি হেফাজতে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালত গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। তবে চীনের সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম পিপলস কোর্ট’ মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্বের রায় বহাল রাখে। সিনহুয়া জানিয়েছে, এই অপরাধী গোষ্ঠীটি অন্য এক চক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে মিলে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করেছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে শেষবার সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় এই ধরনের জালিয়াতি চক্রগুলো বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পর চীন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

নিউজটি শেয়ার করুন

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

আপডেট সময় ০৩:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

 

মিয়ানমারে কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তর মিয়ানমারের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ অন্যতম ছিল এই মিং পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকশ অনলাইন জালিয়াতি কেন্দ্র, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামক একটি কেন্দ্র থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্যমতে, এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করত, যাদের অনেককেই পাচার করে এনে দাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন তেলের খনি আবিষ্কার

২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চীন এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। চক্রের মূল হোতা মিং শুয়েচাং একসময় মিয়ানমারের সংসদ সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশি হেফাজতে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালত গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। তবে চীনের সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম পিপলস কোর্ট’ মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্বের রায় বহাল রাখে। সিনহুয়া জানিয়েছে, এই অপরাধী গোষ্ঠীটি অন্য এক চক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে মিলে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করেছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে শেষবার সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় এই ধরনের জালিয়াতি চক্রগুলো বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পর চীন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।