১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে: জামায়াত আমির নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য ভেনেজুয়েলায় তেল উত্তোলনের নিয়ম সহজ করছে কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডা.শফিকুর রহমান: আমির হামজা দুই বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপি নেত্রী মিতু ‘গুপ্ত দলের’ লোকেরা নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান প্রিসাইডিং অফিসার যাতে ভোটের রেজাল্ট ছাড়া বের হতে না পারে: মির্জা আব্বাস বিএনপি কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে নয়: মির্জা ফখরুল গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ৩ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানি ছাড়াল ৫০০, গ্রেপ্তার ১০ হাজারের বেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 77

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানে টানা বিক্ষোভ ও সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) রোববার এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির দাবি, গত দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে নজিরবিহীন সহিংসতার মধ্যে এই প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তেহরানের মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ এসব নিহত ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই সংখ্যাগুলো যাচাই করতে পারেনি।

গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি রিয়ালের দরপতনে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ লাগাতার রাস্তায় নামতে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারের আহ্বানের পর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। এর জবাবে ইরান সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিলে তার কঠোর মূল্য দিতে হবে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে মসজিদে অগ্নিসংযোগ, ব্যাংকে হামলা ও সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আন্দোলন দমন করতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ করে দেয়, ফলে অনেক এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতের আকাশে ধোঁয়া, বিস্ফোরণের শব্দ এবং উত্তাল রাজপথের দৃশ্য দেখা গেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাপ্রবাহকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানি ছাড়াল ৫০০, গ্রেপ্তার ১০ হাজারের বেশি

আপডেট সময় ১০:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইরানে টানা বিক্ষোভ ও সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) রোববার এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির দাবি, গত দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে নজিরবিহীন সহিংসতার মধ্যে এই প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তেহরানের মর্গে সারি সারি লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ এসব নিহত ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই সংখ্যাগুলো যাচাই করতে পারেনি।

গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি রিয়ালের দরপতনে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ লাগাতার রাস্তায় নামতে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারের আহ্বানের পর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। এর জবাবে ইরান সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিলে তার কঠোর মূল্য দিতে হবে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে মসজিদে অগ্নিসংযোগ, ব্যাংকে হামলা ও সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আন্দোলন দমন করতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ করে দেয়, ফলে অনেক এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতের আকাশে ধোঁয়া, বিস্ফোরণের শব্দ এবং উত্তাল রাজপথের দৃশ্য দেখা গেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাপ্রবাহকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।