ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার সঙ্গে ইরানের চুক্তি স্থগিত ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / 1520

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA)–এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “আমরা আইএইএ-এর সঙ্গে চুক্তি স্থগিত করেছি। তবে যদি জাতিসংঘ এমন কোনো প্রস্তাব দেয় যা ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সহায়ক, আমরা পুনরায় চুক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তাপে বাড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের দাম

১৯৬৮ সালে ইরান IAEA-এর সঙ্গে নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (NPT) চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তখন ইরান এখনও বর্তমান ইসলামপন্থী শাসকগোষ্ঠীর অধীনে ছিল না; সেই সময়ের শাসক ছিলেন শাহ রেজা পহলভী। NPT চুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দেশটি কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং IAEA-কে সহযোগিতা করবে।

এই বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ইরানের সঙ্গে IAEA-এর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ৬ জুন IAEA জানায়, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। এই মান ৯০ শতাংশে উন্নীত হলে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের বিমান অভিযান ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ শুরু হয়। ১২ দিনের সংঘর্ষে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কমপক্ষে ১২ জন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নিহত হন। তবে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখনো অজানা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর IAEA পুনরায় সংলাপের আগ্রহ দেখায়, কিন্তু ইরান তাদের সফরের শর্তে নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলো দেখানোর বাধ্যবাধকতা প্রত্যাখ্যান করে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান, তবে ইরান অবস্থানে অনড় থাকায় ফল হয়নি। এর পর জাতিসংঘ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আরাগচি জানিয়েছেন, “ইউরোপের সঙ্গে আর কোনো বৈঠকের প্রয়োজন নেই।”

সূত্র: RT

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার সঙ্গে ইরানের চুক্তি স্থগিত ঘোষণা

আপডেট সময় ০২:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

 

ইরান জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA)–এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “আমরা আইএইএ-এর সঙ্গে চুক্তি স্থগিত করেছি। তবে যদি জাতিসংঘ এমন কোনো প্রস্তাব দেয় যা ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সহায়ক, আমরা পুনরায় চুক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন  ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে চীন

১৯৬৮ সালে ইরান IAEA-এর সঙ্গে নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (NPT) চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তখন ইরান এখনও বর্তমান ইসলামপন্থী শাসকগোষ্ঠীর অধীনে ছিল না; সেই সময়ের শাসক ছিলেন শাহ রেজা পহলভী। NPT চুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দেশটি কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং IAEA-কে সহযোগিতা করবে।

এই বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ইরানের সঙ্গে IAEA-এর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ৬ জুন IAEA জানায়, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। এই মান ৯০ শতাংশে উন্নীত হলে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের বিমান অভিযান ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ শুরু হয়। ১২ দিনের সংঘর্ষে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কমপক্ষে ১২ জন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নিহত হন। তবে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখনো অজানা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর IAEA পুনরায় সংলাপের আগ্রহ দেখায়, কিন্তু ইরান তাদের সফরের শর্তে নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলো দেখানোর বাধ্যবাধকতা প্রত্যাখ্যান করে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান, তবে ইরান অবস্থানে অনড় থাকায় ফল হয়নি। এর পর জাতিসংঘ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আরাগচি জানিয়েছেন, “ইউরোপের সঙ্গে আর কোনো বৈঠকের প্রয়োজন নেই।”

সূত্র: RT