ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওমান উপসাগরে ২০ লাখ লিটার চোরাই তেলসহ বিদেশি ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 830

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান ওমান উপসাগর থেকে একটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে, যেটিতে প্রায় ২০ লাখ লিটার চোরাই তেল বহন করা হচ্ছিল। বুধবার (১৬ জুলাই) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মুজতবা গাহরেমানি বলেন, ওমান উপসাগরে জ্বালানি চোরাচালানের সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারির অংশ হিসেবে একটি বিদেশি ট্যাংকার তল্লাশি করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ট্যাংকারটিকে আটক করা হয় এবং এতে প্রায় ২০ লাখ লিটার চোরাই তেল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ: ‘আপনি যা খুশি করুন’

তিনি আরও জানান, ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেনসহ মোট ১৭ জন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি আটক ট্যাংকারটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী, কিংবা আটককৃত ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এই ঘটনায় জাস্ক কাউন্টির প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানে বিশ্বে অন্যতম কম দামে জ্বালানি পাওয়া যায়। ব্যাপক সরকারি ভর্তুকি এবং মুদ্রার মান পতনের কারণে তেলের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থল ও সমুদ্রপথে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই জ্বালানি পাচার হচ্ছে।

বিচারপতি গাহরেমানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিদেশি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যারা জাতীয় সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে জ্বালানি চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের নজরদারির বাইরে তাদের কোনো কার্যকলাপই থাকবে না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।”

এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তানজানিয়ার পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার আটক করেছিল, যেগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ লিটার ডিজেল বহন করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন, নইলে এই ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যেতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ওমান উপসাগরে ২০ লাখ লিটার চোরাই তেলসহ বিদেশি ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান

আপডেট সময় ০২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

 

ইরান ওমান উপসাগর থেকে একটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে, যেটিতে প্রায় ২০ লাখ লিটার চোরাই তেল বহন করা হচ্ছিল। বুধবার (১৬ জুলাই) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মুজতবা গাহরেমানি বলেন, ওমান উপসাগরে জ্বালানি চোরাচালানের সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারির অংশ হিসেবে একটি বিদেশি ট্যাংকার তল্লাশি করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ট্যাংকারটিকে আটক করা হয় এবং এতে প্রায় ২০ লাখ লিটার চোরাই তেল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন  ইরান-ইসরাইল সংঘাতে নিহত ৬০ জনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা, তেহরানে মানুষের ঢল

তিনি আরও জানান, ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেনসহ মোট ১৭ জন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি আটক ট্যাংকারটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী, কিংবা আটককৃত ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এই ঘটনায় জাস্ক কাউন্টির প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানে বিশ্বে অন্যতম কম দামে জ্বালানি পাওয়া যায়। ব্যাপক সরকারি ভর্তুকি এবং মুদ্রার মান পতনের কারণে তেলের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থল ও সমুদ্রপথে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই জ্বালানি পাচার হচ্ছে।

বিচারপতি গাহরেমানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিদেশি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যারা জাতীয় সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে জ্বালানি চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের নজরদারির বাইরে তাদের কোনো কার্যকলাপই থাকবে না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।”

এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তানজানিয়ার পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার আটক করেছিল, যেগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ লিটার ডিজেল বহন করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন, নইলে এই ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যেতে পারে।