ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের সুমিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৬ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • / 212

ছবি সংগৃহীত

 

ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জনের বেশি। ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে ন্যাশনাল গার্ড নিশ্চিত করে, সুমি অঞ্চলের একটি ফায়ারিং রেঞ্জে মহড়ার সময় এ প্রাণঘাতী হামলা হয়। ঘটনার পরপরই ইউনিটের কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, ইউক্রেনের সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষর

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, তারা ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি ইউক্রেনীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে, যেখানে অন্তত ৭০ জন সেনা নিহত হতে পারে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এমন তথ্য দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বনাঞ্চলের পাশে সেনারা হাঁটছেন, এরপর হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে জানা গেছে, ভিডিওটি সুমি অঞ্চলের উত্তরাংশে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ধারণ করা হয়েছে, যা রুশ সীমান্ত থেকে খুব একটা দূরে নয়।

এই হামলাকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সুমি অঞ্চল অতীতেও রাশিয়ার গোলাবর্ষণের লক্ষ্য হয়েছে। এখান থেকেই ইউক্রেন কয়েক মাস আগে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে পাল্টা অভিযান চালিয়েছিল। ইউক্রেন জানায়, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল সুমি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বাফার জোন তৈরি করা, তবে এতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি কুরস্ক সফর করেন, যা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটানোর পর তার প্রথম সফর বলে জানায় ক্রেমলিন। সেখানে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একজন অস্থায়ী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে এবং পূর্বাঞ্চলের চারটি অঞ্চল নিজেদের বলে ঘোষণা দেয়। তবে এসব এলাকার অনেক অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে।

এদিকে, পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে রাতভর রাশিয়ার ১৪টি হামলা হয়েছে বলে ইউক্রেন জানায়। বিশেষ করে পোকরভস্ক শহরের কাছে রুশ বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রোড লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুলে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের এক বৈঠক হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যাটিকানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও, তা এখনো কেবল আশাবাদ হিসেবেই রয়ে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া শুধু সময় নষ্ট করছে, যাতে তারা দখল চালিয়ে যেতে পারে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেনের সুমিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৬ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

আপডেট সময় ০৫:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জনের বেশি। ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে ন্যাশনাল গার্ড নিশ্চিত করে, সুমি অঞ্চলের একটি ফায়ারিং রেঞ্জে মহড়ার সময় এ প্রাণঘাতী হামলা হয়। ঘটনার পরপরই ইউনিটের কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনের নতুন অ্যান্টি-ড্রোন অস্ত্রভান্ডার: “The Sting”

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, তারা ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি ইউক্রেনীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে, যেখানে অন্তত ৭০ জন সেনা নিহত হতে পারে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এমন তথ্য দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বনাঞ্চলের পাশে সেনারা হাঁটছেন, এরপর হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে জানা গেছে, ভিডিওটি সুমি অঞ্চলের উত্তরাংশে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ধারণ করা হয়েছে, যা রুশ সীমান্ত থেকে খুব একটা দূরে নয়।

এই হামলাকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সুমি অঞ্চল অতীতেও রাশিয়ার গোলাবর্ষণের লক্ষ্য হয়েছে। এখান থেকেই ইউক্রেন কয়েক মাস আগে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে পাল্টা অভিযান চালিয়েছিল। ইউক্রেন জানায়, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল সুমি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বাফার জোন তৈরি করা, তবে এতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি কুরস্ক সফর করেন, যা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটানোর পর তার প্রথম সফর বলে জানায় ক্রেমলিন। সেখানে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একজন অস্থায়ী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে এবং পূর্বাঞ্চলের চারটি অঞ্চল নিজেদের বলে ঘোষণা দেয়। তবে এসব এলাকার অনেক অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে।

এদিকে, পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে রাতভর রাশিয়ার ১৪টি হামলা হয়েছে বলে ইউক্রেন জানায়। বিশেষ করে পোকরভস্ক শহরের কাছে রুশ বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রোড লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুলে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের এক বৈঠক হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যাটিকানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও, তা এখনো কেবল আশাবাদ হিসেবেই রয়ে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া শুধু সময় নষ্ট করছে, যাতে তারা দখল চালিয়ে যেতে পারে।”