ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

বর্ষার আগেই আতঙ্কে মেঘনার উপকূলবাসী, মরণ ফাঁদে পরিণত বেড়িবাঁধ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 399

ছবি সংগৃহীত

 

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলবর্তী সদর ও কমলনগর উপজেলার হাজারো মানুষ এখন দিন কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। বর্ষা শুরু না হতেই জোয়ারের পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মজুচৌধুরীর হাট থেকে মতিরহাট পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধটির কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। ফলে এটি এখন কার্যত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  জাপানে তিন দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল, এক নিহত, হাজার হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধটি দুই ফুট পর্যন্ত নিচু হয়ে গেছে। এ কারণে জোয়ারের পানি অনায়াসেই প্রবেশ করছে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গবাদিপশুর খামারে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন উপকূলের মানুষ।

চর রমণীমোহন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, “প্রায় প্রতি বছরই পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোন স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেড়িবাঁধটি এখন নিচু হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙেও পড়েছে। প্রতি বছর আমরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছি।”

৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর বলেন, “জোয়ারের পানি এলে গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়ি। হাঁস-মুরগি রক্ষা করাও কষ্টকর। বেড়িবাঁধ আমাদের জন্য এখন দুর্ভোগের নাম।”

কমলনগরের চর মার্টির এলাকার ওমর ফারুক বলেন, “প্রতিবছর লোক দেখানো কিছু মেরামত হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান আসে না। একসময় হয়তো এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হব।”

বিষয়টি স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, “বর্ষার আগেই সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সার্বক্ষণিক নজরদারিও চলছে।”

তবে উপকূলবাসীর দাবি, বর্ষার আগেই দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে প্রতিবছরই এ অঞ্চলের মানুষকে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়তে হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্ষার আগেই আতঙ্কে মেঘনার উপকূলবাসী, মরণ ফাঁদে পরিণত বেড়িবাঁধ

আপডেট সময় ০১:১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলবর্তী সদর ও কমলনগর উপজেলার হাজারো মানুষ এখন দিন কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। বর্ষা শুরু না হতেই জোয়ারের পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মজুচৌধুরীর হাট থেকে মতিরহাট পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধটির কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। ফলে এটি এখন কার্যত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  টেক্সাসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু ১০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ বহু

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধটি দুই ফুট পর্যন্ত নিচু হয়ে গেছে। এ কারণে জোয়ারের পানি অনায়াসেই প্রবেশ করছে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গবাদিপশুর খামারে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন উপকূলের মানুষ।

চর রমণীমোহন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, “প্রায় প্রতি বছরই পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোন স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেড়িবাঁধটি এখন নিচু হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙেও পড়েছে। প্রতি বছর আমরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছি।”

৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাগর বলেন, “জোয়ারের পানি এলে গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়ি। হাঁস-মুরগি রক্ষা করাও কষ্টকর। বেড়িবাঁধ আমাদের জন্য এখন দুর্ভোগের নাম।”

কমলনগরের চর মার্টির এলাকার ওমর ফারুক বলেন, “প্রতিবছর লোক দেখানো কিছু মেরামত হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান আসে না। একসময় হয়তো এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হব।”

বিষয়টি স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, “বর্ষার আগেই সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সার্বক্ষণিক নজরদারিও চলছে।”

তবে উপকূলবাসীর দাবি, বর্ষার আগেই দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে প্রতিবছরই এ অঞ্চলের মানুষকে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়তে হবে।