ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্ত্রীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 441

ছবি সংগৃহীত

 

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্টা হুমালা এবং তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে অর্থ পাচারের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় বিচার প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) লিমার একটি আদালত এই বহুল প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (১৬ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, হুমালা ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রাজিলের একটি নির্মাণ কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে তহবিল গ্রহণ করেছিলেন। এই অর্থ তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেন। হুমালার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াও এই তহবিল পাচার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, হেরেদিয়া তার স্বামীর সঙ্গে মিলে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার এক বছরের কারাদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমালা আদালতে উপস্থিত থাকলেও, তার স্ত্রী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে হেরেদিয়া ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় পান এবং বর্তমানে তিনি তার ছেলেসহ সেখানেই অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটররা হুমালার জন্য ২০ বছর এবং হেরেদিয়ার জন্য ২৬ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত দুজনকেই ১৫ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ওলান্টা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নেন এবং তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলেন। তখনও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।

এই রায় পেরুতে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম এই রায়কে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্ত্রীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

 

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্টা হুমালা এবং তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে অর্থ পাচারের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় বিচার প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) লিমার একটি আদালত এই বহুল প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (১৬ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, হুমালা ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রাজিলের একটি নির্মাণ কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে তহবিল গ্রহণ করেছিলেন। এই অর্থ তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেন। হুমালার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াও এই তহবিল পাচার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, হেরেদিয়া তার স্বামীর সঙ্গে মিলে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার এক বছরের কারাদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমালা আদালতে উপস্থিত থাকলেও, তার স্ত্রী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে হেরেদিয়া ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় পান এবং বর্তমানে তিনি তার ছেলেসহ সেখানেই অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটররা হুমালার জন্য ২০ বছর এবং হেরেদিয়ার জন্য ২৬ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত দুজনকেই ১৫ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ওলান্টা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নেন এবং তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলেন। তখনও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।

এই রায় পেরুতে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম এই রায়কে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।