ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নির্বাচনে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 137

ছবি সংগৃহীত

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব এমএফএস সেবায় একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা থাকবে ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকতে পারে। একই সময়ের জন্য ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

গত সপ্তাহে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাদের জানানো হবে।

টাকার অপব্যবহার ঠেকাতে উদ্যোগ
নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ অনুযায়ী লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বর্তমান ও প্রস্তাবিত এমএফএস লেনদেন সীমা
বর্তমানে এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে বিএফআইইউর প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেন হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। এই বিধিনিষেধ ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়েও কড়াকড়ি
বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়।

নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

নগদ লেনদেনে বাড়তি নজরদারি
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জানাতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে বা ভুল তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচনে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন

আপডেট সময় ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব এমএফএস সেবায় একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা থাকবে ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকতে পারে। একই সময়ের জন্য ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন  জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলের মধ্যে আয়োজনের পরামর্শ জামায়াত আমিরের

গত সপ্তাহে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাদের জানানো হবে।

টাকার অপব্যবহার ঠেকাতে উদ্যোগ
নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ অনুযায়ী লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বর্তমান ও প্রস্তাবিত এমএফএস লেনদেন সীমা
বর্তমানে এমএফএস গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে বিএফআইইউর প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেন হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। এই বিধিনিষেধ ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়েও কড়াকড়ি
বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়।

নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

নগদ লেনদেনে বাড়তি নজরদারি
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জানাতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে বা ভুল তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।